রিফাত হাসান: পলিটিক্যাল টার্মস মেকার

রিফাত হাসান: পলিটিক্যাল টার্মস মেকার

Table of Contents

     রাজনৈতিক শব্দ সৃষ্টির কারিগর রিফাত হাসান 

    রিফাত হাসান একজন বাঙালী লেখক,চিন্তক ও বুদ্ধিজীবী। রাজনীতি, দর্শন নিয়ে তিনি ফেসবুকে বেশ সক্রিয় ।তার চিন্তা করার ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় আলাদা।দেশের জনপ্রিয় টকারদের (কথকজীবী) থেকে ব্যতিক্রম তিনি। রিফাত হাসান ফেসবুক ও তার নিজস্ব ব্লগে  ছোট ছোট পোষ্ট দেন।মন্তব্য করেন, সাথে প্রশ্ন ছুড়ে দেন।অন্যদের মত শিক্ষকসুলভ আচরণ করেন না। গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের বাইরে অবস্থান করেন তিনি। তুলনামূলক আলোচনা তার প্রধান বৈশিষ্ট্য। ধর্ম ও ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীর সাথে বিদ্যমান রাজনীতির যে সম্পর্ক তা তার লেখায় ফুটে ওঠে। রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্টদের সাথে ধর্মের যে মিল তা তিনি সাবলীলভাবে তুলে ধরতে পারেন। নতুন নতুন শব্দ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর যে গোষ্ঠীগত আচরণ তা তার লেখায় তুলে ধরেন।রিফাত হাসান হয়তো বোঝাতে চান ধর্মের বিপরীতে আরেকটি ধর্ম গোষ্ঠী তৈরি হয়। প্রগতিশীল বিজ্ঞানমনস্ক ও বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোও এর বাইরে নয়। তাদের আচরণও অভিন্ন।মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক আচরণ অধর্মভিত্তিক কিংবা ভিন্ন আদর্শভিত্তিক গোষ্ঠীর মধ্যেও পাওয়া যায়। 


    রিফাত হাসান তার ফেসবুকে লিখেছেন, 

    "লালনের দ্বীন হওয়া সম্ভব না। লালন ধরনের ফেনোমেননগুলোর গুরুত্ব ফর্মহীনতা। যখন ফর্ম, মানে ধর্ম হইতে আসে, তখন এইটারে আমি ধর্মবাসনা বলি। সেকুলার রাষ্ট্র হইতে শুরু কইরা যে কোন ফর্মের ধর্ম হয়ে ওঠা বেশ ভয়ঙ্কর ব্যাপারই। এইটা লালনে যেমন, রবীন্দ্রনাথেও তাই। তখন এইটা আর মুক্তি থাকে না"।

    "রাজাকারের মাথায় টুপি', এইটা তো বাংলা সাহিত্য ও সিনেমার ভেতরের চরম ফালতু ও সাম্প্রদায়িক ঘটনাই। দেখা যাচ্ছে, শহীদুল জহিরও এই ব্লান্ডার ঘটাইছেন, মানে, সাহিত্য মান দূর অস্ত, কোন একটা ঘটনারে প্রসারিত জায়গা থিকা দেখার দূরদৃষ্টি ও উদারতা, তা জহিরের কম ছিল। লঘুতা ছিল। সকালে ননসেন্সের কথা কইতেছিলাম। দেখা যাচ্ছে, জহির যথেষ্ট সেন্সও নির্মাণ করতে চাইছেন। তবে, এইসব আরো লঘুতর। লঘু চিন্তা থিকা উদ্ভূত সাহিত্য লঘু হইতে পারে না বইলা আপনাদের ঈমান"


    writer rifat hasan
    ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

    রিফাত হাসানের লেখার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য

    ১. তিনি রাজনৈতিক শব্দের পারিভাষিক অর্থ ও নতুন শব্দ সৃষ্টির কারিগর। ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও চলতি রাজনীতির যে সম্পর্ক তা তিনি  সাবলীলভাবে তুলে ধরেন।

    ২. তুলনামূলক আলোচনা  ও মেলবন্ধন তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 

    ৩. গোষ্ঠী ও সমাজের মূল সমস্যা নিখুঁতভাবে তুলে ধরেন। 

    ৪. তিনি পার্থক্য ও সম্বন্ধ স্থাপন করতে পারেন। রাজনীতি যে বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক।

    ৫. মানবজাতির একক ও গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক আচরণ সূক্ষ্ণভাবে ভাবতে পারেন।  

    ৬. শিক্ষক সুলভ আচরণ করেন না।গুরু হওয়া বা নিজের গুরুভক্তি নাই।

    ৭. রিফাত হাসান অল্পতে অনেক কিছু বলেন। যা পাঠকের চিন্তার উদ্বেগ ঘটায়।

    বাংলাদেশে যে কয়েকজন প্রকৃত বুদ্ধিজীবী রয়েছেন চট্টগ্রামের রিফাত হাসান তাদের একজন।এখনো দেশে ব্রাত্য রাইসু, রিফাত হাসান ও ফরহাদ মজহারদের মত বুদ্ধিজীবী আছে।আমরা যারা চিন্তা জগতের মেধাবী ছাত্র তারা তাদেরকে অবলীলায় অনুসরণ করতে পারি।

    যখন আদর্শ ও মুক্তির নামে নতুন নতুন অনৈশ্বরিক ধর্ম গোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে কিংবা ঐশ্বরিক ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি হচ্ছে, এমতাবস্থায় তাদের মত সুস্থ মস্তিষ্কের প্রকৃত বুদ্ধিজীবীরা আমাদের মন ও মগজ তৈরির চেষ্টা করছেন। আমরা তাদের চেষ্টাকে শ্রদ্ধা করি।

    লেখক: মহাজাগতিক বৃত্তের বিন্দু। 


    মন্তব্যসমূহ