নবাব সিরাজুদ্দৌলার ধন সম্পদ যেভাবে লুট করা হয়েছিল

Table of Contents

     সিরাজুদ্দৌলার ধন-রত্নের ভাগ

    বিকালে যুদ্ধ শেষ হয়।নবাব অবস্থা বেগতিক দেখে আত্মগোপন করে।লর্ড ক্লাইভ মুর্শিদাবাদের মোরাগবাগে অবস্থান করে।মীর ক্লাইভকে হীরঝিল প্রাসাদে নিয়ে যায়।সেখানে উপস্থিত ছিল উমিচাঁদ, মীরজাফর, মুন্সি নবকৃষ্ণসহ বাংলার বিশ্বাসঘাতক ও ইংরেজদের অনেকে।ক্লাইভ মীরজাফরকে মসনদে বসায়।উপস্থিত সবাই তাকে স্বাগতম জানায়।চারিদিকে জানিয়ে দেয়া হয় নতুন শাসকের কথা। রাজ্যাভিষেক শেষে লুট করা হয় বাংলার শেষ  স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলার ধন-রত্ম।লুঠের সময় উপস্থিত ছিল নবাব মীরজাফর, ক্লাইব, ওয়ালস্, কাশিম-বাজার কুঠীর ওয়াটস, লুসিংটন, দেওয়ান রামচাদ এবং মুনসী নবকৃষ্ণ । ধনাগারে ছিল এক কোটি ছিয়াত্তর লক্ষ রূপার টাকা, বত্রিশ লক্ষ সোনার টাকা, দুইটা সিন্দুক বোঝাই সোনা, চার বাক্স হীরা জহরৎ আর দু'বাক্স চুনী-পান্না এবং অন্যান্য মূল্যবান রত্ন।

     সম্পত্তির ভাগে কে কতোটুকু পেয়েছিল? 

    মীরজাফরের কাছ থেকে ইংরেজরা পায় মোট তিন কোটি আটত্রিশ লক্ষ পঁচাশি হাজার সাতশো পঞ্চাশ টাকা। এর মধ্যে স্বয়ং ক্লাইভ পায় তেইশ লক্ষ চব্বিশ হাজার টাকা ।টাকা ভাগাভাগির নীল নকশা তৈরি করা  হয়েছিলো জগৎশেঠের বাড়ীতে। ইংরেজদের সঙ্গে  যত টাকার চুক্তি হয়েছিল ততোটাকা টাকা  ধনাগারে ছিল না অনেক আলাপ আলোচনার  পর স্থির হয় ইংরেজদের প্রাপ্য টাকা  পরিশোধ করা  হবে দুই কিস্তিতে। ইংরেজরা রাজী হয় মীর জাফরের প্রস্তাবে নবাবকে পরাজিত করে  কে কত টাকা পাবে এটা স্থির করা ছিল গোপন দলিলে পলাশীর যুদ্ধের আগেই। ক্লাইভের নির্দেশে দুইটা দলিল তৈরি করা হয়েছিল। একটা আসল, আরেকটা নকল। জাল দলিলে লেখা ছিল  উমিচাঁদকে দেওয়া হবে কুড়ি লক্ষ সিক্কা টাকা। কিন্তু আসল দলিলে তার নাম বাদ দেয়া হয়। পরে এক পয়সাও পায়নি সে।উমিচাঁদ জানতে পেরে অজ্ঞান হয়ে যায়।বাকী জীবন উমিচাঁদকে মানসিক রোগী হয়ে বনে জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে মরতে হয়।


    মন্তব্যসমূহ