মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ সময়ের দাবী
বৃটিশ আমলে এদেশে স্কুল-কলেজের সংখ্যা ছিলো হাতেগোনা কয়েকটি।শিক্ষার জন্য মূল বাংলা তথা বাংলাদেশীরা কলকাতা নির্ভর হয়ে পড়ে।কলকাতায় তৎকালীন ধনী প্রভাবশালীরা সংখ্যায় বেশি ছিলো ।সরকারিভাবে স্কুল কলেজ নির্মিত হতো না।স্থানীয় জমিদার, ধনী, শিক্ষানুরাগী, দানবীর ও জনসাধারণের সহযোগিতায় নির্মিত হত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। টিউশন ফি, স্কুলের নিজস্ব সম্পদ-সম্পত্তি ও জনসাধারণের অনুদান থেকে শিক্ষকদের বেতন দেয়া হতো।নিয়মিত কোনো বেতন শিক্ষকদের ছিলো। টিন, খড়ে নির্মিত বিদ্যালয়।এখনো খুঁজলে টিনের চালার স্কুল পাওয়া যাবে।
১৮৫৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির "বোর্ড অব কন্ট্রোল" এর সভাপতি স্যার চার্লস উডস প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদানের জন্য সুপারিশ করে।এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর থেকে বার্ষিক ফলাফল ও অন্যান্য যোগ্যতায় এককালীন অনুদান Grant in aid নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া হতো। ভারতের স্বাধীনতা ও বাংলা ভাগের পর পাকিস্তান পিরিয়ডে এই Grand in aid প্রথা চালু ছিলো।
স্বাধীনতার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুদান
স্বাধীনতা পরবর্তী এক সমীক্ষায় দেখা যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৪০ হাজারের কাছাকাছি। মাধ্যমিক স্কুল ছিল ৬০০০ এর মতো। কলেজ ছিল ৪০০, পলিটেকনিক ছিল ১৭ টি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ৬ টি। সামান্য কয়েকটি স্কুল-কলেজ আর ১৭ টি পলিটেকনিক এবং ৬ টি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকী সব স্কুল ছিলো বেসরকারি অর্থায়নে পরিচালিত। ১৯৭৩ সালে একযোগে ৩৭০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়।হাতেগোনা কিছু বাদে সমস্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বেসরকারি খাতে থেকে যায়। ১৯৮১ সালে ১লা সেপ্টেম্বর থেকে বেসরকারি স্কুল শিক্ষকের সরকারি বেসিকের ৫০% শতাংশ MPO নামে পাওয়া শুরু করে। এরপর শিক্ষকদের নানা আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমানে এসে পৌছেছে। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষকেরা বেসিক বেতন শতভাগ পেলেও বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শ্রান্তি, উৎসব ভাতা সরকারি চাকুরিজীবীদের সমান পায় না।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ জরুরী
স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার মাধ্যমিক বিদ্যালয় বেছে বেছে জাতীয়করণ করেছে। কিসের ভিত্তিতে সেগুলো জাতীয়করণ হয়েছে? বা কিভাবে জাতীয়করন হয়েছে তা বলা মুশকিল। দেখা গেছে দেশে দেশের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো জাতীয়করন হয় নি।যেমন নাটোরের লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় (বি.এম সংযোজিত) এখনো জাতীয়করন হয় নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বহুমুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। একটি মডেল স্কুল হিসেবে স্বীকৃত।উপজেলার প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। এই ধরনের প্রতিষ্ঠান যেগুলো শতবর্ষ ধরে শিক্ষিত সমাজ তৈরিতে ভূমিকা রেখে চলেছে সরকারের উচিত দ্রুত জাতীয়করণ ঘোষণা দেয়া।
জাতীয়করণ কোন স্কুলগুলো হওয়া উচিত?
যে-সব শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো জাতীয়করন বঞ্চিত দ্রুত তাদের সরকারি করা উচিত। যেসকল প্রতিষ্ঠান ভালো ফলাফল করছে তাদের প্রাধান্য দেয়া উচিত। যে সকল মডেল স্কুলগুলো এখনো জাতীয়করন বঞ্চিত তাদের পক্ষে ঘোষণা দেয়া উচিত। এসকল ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করন হলে সরকারি বাজেটে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না।বরং এদেশের দানবীর ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা যেসকল জমি, বাজার,পুকুর-বাগান স্কুলের জন্য রেখে গেছে সেগুলো জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে। জাতি হবে উপকৃত।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন