হাফেজিয়া ও কওমি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা ও প্রতিকার

হাফেজিয়া ও কওমি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা ও প্রতিকার


এই ভারত উপমহাদেশে মুসলমানদের আগমন ঘটে নবীর জীবদ্দশাতেই সাহাবীদের আগমনের মধ্য দিয়ে। নবীর সাহাবী মালেক বিন দিনার তার সঙ্গীদের নিয়ে ভারতে আসেন। কেরেলার রাজা চেরামন পেরুমলের সাথে সাক্ষাৎ হয় এই সাহাবীর। তার থেকে নবীর কথা শোনেরন পেরুমল।মক্কায় গিয়ে দেখা করেন এবং ইসলাম গ্রহণ করে। ফিরে আসার পথে ওমানে মৃত্যু হয় রাজার। কেরেলায় তৈরি চেরামন জুমা মসজিদ। ভারতীয় ইতিহাসে প্রথম মসজিদ। তো অতীতে ইসলাম শিক্ষা ছিলো মসজিদভিত্তিক। সুলতানী আমলে প্রথম মাদ্রাসাভিত্তিক ইসলামী শিক্ষা চালু হয়। মাদ্রাসা-ই ফিরুজ শাহী কে প্রথম মাদ্রাসা হিসাবে গণ্য করা হয়। তারপর ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভারতবর্ষে। ব্যক্তি, সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় তৈরি হতে হাফেজিয়া,কওমিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ।মাদ্রাসার সঠিক সংখ্যা পাওয়া খুবই কঠিন। সরকারি -বেসরকারি কোনো হিসেব নেই। অবশ্য আলিয়া মাদ্রাসা তৈরি হয় বৃটিশ আমলে। বর্তমানে বেশিরভাগ আলিয়া মাদ্রাসা  এমপিওভূক্ত। যা সরকারি কারিকুলামে চলে।

কওমিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা চলে কিভাবে?

অতীতে  মাদ্রাসা ছাত্ররা মৌসুমী ফসল ও অর্থ অনুদান নিতে গ্রামে গ্রামে  আসতো । একজন মাদ্রাসা ছাত্র হিসেবে আমি নিজেও মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চা'ল তুলেছি। এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না সে দৃশ্য। শহরের রাস্তার মোড় ব্যতীত। মানুষের আর্থিক অবস্থা অতীতের তুলনায় ভালো হওয়ায় মাদ্রাসাগুলো ভালোই চলছে। কিন্তু দিন দিন শিশু নির্যাতন ও শিশু বলৎকারের ঘটনা বেড়েই চলেছে।পুরুষ মাদ্রাসায় বলৎকারের ঘটনা প্রকাশ পেলেও মহিলা মাদ্রাসার অন্দরে কী হয় তা আমাদের জানা নেই।

কেন মাদ্রাসাতে শিশু নির্যাতন কেন  ঘটে?

একজন সাবেক মাদ্রাসা ছাত্র হিসেবে আমি জানি ছাত্ররা তার শিক্ষককে কতোটা শ্রদ্ধা করে।আর নিজেরা কতোটা মানবেতর জীবন-যাপন করে। মাদ্রাসা ছাত্ররা তাদের ওস্তাজকে (শিক্ষক) পিতার চেয়ে বেশি মান্য করে। কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষক মনে করে ছাত্রদের শারীরিক নির্যাতন করলেই তারা পড়ায় মনোযোগী হবে।বেশিরভাগ শিক্ষক বদ মেজাজি। তাদের সাধারণ নৈতিক শিক্ষা থাকলেও বোধ কম।চিন্তা শক্তি কম। এই নির্যাতনের ভয়ে অনেক ছাত্র রাতে আঁধারে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সরকার কিংবা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় এই ভয়াবহতা চলছে বহুকাল থেকে।

কেন মাদ্রাসায় বলৎকারের ঘটনা ঘটছে?

কওমি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় বলৎকারের ঘটনা নতুন নয়। সোস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে খুব সহজে ভিতরের ঘটনা জানতে পারা গেলেও এই অপকর্ম বহু পূর্ব থেকে চলে আসছে।মাদ্রাসায় সাধারণত ৭-১৭ বছর বয়সী বাচ্চারা পড়াশোনা করে। একই রুমে ২৫-৩০ জন বিভিন্ন বয়সী বাচ্চা পাশাপাশি গায়ের সাথে গা লাগিয়ে রাতে ঘুৃমায়। কিশোর বয়সী এসকল বাচ্চারা যৌনতার বাসনা পূরণে তার প্রিয় বন্ধুর সাথে মিলিত হতে চায়। এখান থেকে সমকামীতার সূচনা। যখন ঐ ছেলে হাফেজ হওয়ার পর কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক হয় তখনো তার মধ্যে অভ্যাসটা রয়ে যায়। নাদুস-নুদুস কোন বাচ্চা ছেলেকে টার্গেট করে হুজুর। নিজ ঘরে ঢেকে পা-হাত টেপাতে থাকে। এভাবে মাদ্রাসা শিক্ষক ধীরে ধীরে বলৎকার করে। পরে ধর্ম-শয়তান এগুলোর ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখতে চায়। বাচ্চা ছেলেটি তখন হুজুরের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পরিবারকে জানায়। এভাবে আমরা জানতে পারি। হয়তো অনেক ঘটনা আড়ালে থেকে যায়। 

মাদ্রাসায় ঘটা শিশু নির্যাতনের প্রতিকার

মাদ্রাসা কমিটি এলাকবাসী মনে করে টিনের বেড়া দিয়ে একটা হেফজখানা তৈরী করে কিছু বাচ্চা ভর্তি করালে দায়িত্ব শেষ। কী খাচ্ছে? কী পড়ছে? হুজুর তাদের দিয়ে কী করাচ্ছে এগুলোর খোঁজ রাখে না।তাছাড়া একজন শিক্ষকের বেতনও সামান্য।অভাব-অশান্তি থেকেও শিশু নির্যাতন বাড়তে পারে।

মাদ্রাসায় শিশু বলাৎকার রোধে মাদ্রাসা কমিটিকে সচেতন হতে হবে। গ্রামে গ্রামে টিনের মাদ্রাসা না বানিয়ে অর্থদাতা খুঁজে অন্তত ৫-৭ গ্রাম মিলে একটি মানসম্মত মাদ্রাসা তৈরী করতে হবে। একই ঘরে ভিন্ন বয়সী বাচ্চাদের রাখা যাবে না। শোয়ার বেড অন্তত ৪ হাত করে ফাঁকা রাখতে হবে। শিশুদের দিয়ে হুজুরের  শরীর টেপানো যাবে না। এদেশে কওমী অঙ্গন অন্যদের ব্যপারে যে ফতোয়া দেয় তা মাদ্রাসায় হওয়া পাপের সম্পর্কে ফতোয়া দেয় না। আমি হেফাজত, চরমোনাই কোনে গ্রুপ কাউকে দেখিনি মাদ্রাসায় হওয়া সমকামিতার বিরুদ্ধে কথা বলতে। ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের কাছে ভুল মেসেজ যাচ্ছে।কয়েকজন ব্যক্তির জন্য  মাদ্রাসাগুলো সম্পর্কে খারাপ ধারণা তৈরি হচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে যদি দেশে মাদ্রাসা শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে ধর্মীয় শিক্ষা একেবারে হারিয়ে যাবে।তাই মাদ্রাসা ও ধর্ম শিক্ষাকে ধরে রাখতে  আলেম ওলামদের নিরপেক্ষ দায়িত্ব নিতে হবে।

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা

মন্তব্যসমূহ