বুদ্ধিজীবী ও দার্শনিকদের বিতর্কিত জীবন।মনে এক মুখে আরেক জেনে নিন তারা কার?

বুদ্ধিজীবী ও দার্শনিকদের বিতর্কিত জীবন।মনে এক মুখে আরেক জেনে নিন তারা কার?

 যারা সমাজ পরিবর্তনের চিন্তা করে, বিচার বিশ্লেষণ করে বুদ্ধি পরামর্শ দেয় তাদেরকে আমরা বুদ্ধিজীবী বলি।আর যারা উন্নত চিন্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণধর্মী বাস্তবিক চিন্তা করে তারা দার্শনিক।তারা বই লেখেন। দেশ জাতি তাদের লেখায় অনুপ্রাণিত হয়।রাষ্ট্র সরকারের উপর প্রভাব বিস্তার করে তাদের কথা ও কাজ। আজকে আমরা এমন কিছু  দার্শনিক ও লেখকের বিতর্কিত জীবন নিয়ে আলোচনা করবো যারা আজীবন মানুষকে বুদ্ধি পরামর্শ  দিয়েছে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কিন্তু বাস্তব জীবনে তারা তা মেনে চলেন নি।এমন কিছু দার্শনিকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আজকের  আলোচনা যাদের বাংলাদেশি সাহিত্যক, বুদ্ধিজীবিরাও আদর্শ হিসেবে মেনে চলে।

কার্ল মার্ক্স এর বিতর্কিত জীবন 

দার্শনিক, প্রগতিশীল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কার্ল মার্ক্স। সারা পৃথিবীতে তার আদর্শ নিয়ে তার অনুসারীরা  রাজনীতি করছে।মার্ক্সবাদী কমিউনিস্টরা ধর্ম ও ধর্মীয় দলগুলোর কঠোর সমালোচক। কিন্তু তাদের মহামানব কার্ল মার্ক্সের ছিলো বিতর্কিত জীবন। নিজের স্থায়ী কোনো আয়ের উৎস ছিলো না।তার বন্ধুর টাকায় জীবন চালাতো সে।অর্থের অভাবে নিজের সন্তানেরা বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। এমনকি বাড়ীর গৃহকর্মীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। গৃহকর্মীর সন্তানের পিতৃ পরিচয় দেয় নি কার্ল মার্ক্স। তার বন্ধু গৃহকর্মীর সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছিলো।

মিশেল ফুঁকোর বিতর্কিত জীবন 

মিশেল ফুকো একজন ফরাসি দার্শনিক ছিলেন।বলা হয়ে থাকে তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন।ফুকো একজন সমকামী ছিলেন। সমকামী কালচারের সাথে যুক্ত ছিলেন। প্রচলিত আছে তিনি অর্থের বিনিময়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সঙ্গীর সাথে মিলিত হয়েছিলেন।১৯৮৪ সালে মিশেল ফুকো  এইডস আক্রান্ত হয়ে মারা যান।


সক্রেটিস এর বিতর্কিত জীবন

গ্রিকের এথেন্সে গনতন্ত্রের সূচনা ঘটে।ধারণা করা হয় সক্রেটিস এবং তার ছাত্ররা গনতন্ত্রের বিরোধী ছিল। সক্রেটিসকে গনতান্ত্রিক সরকার মৃত্যুদন্ড দেয় । সক্রেটিস এর ছাত্র প্লেটো,  ক্রিটিয়াস, অ্যালসোবিডিয়াস গনতন্ত্রের বিরোধী হয়ে উঠে। 

প্লেটো নিয়ে বিতর্ক 

চোখের সামনে তার প্রিয় শিক্ষক সক্রেটিসের মৃত্যুদন্ড দেয় গ্রিসের গনতান্ত্রিক সরকার। এই ঘটনায় প্লেটো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। প্লেটো মনে করতেন সাধারণ মানুষের দেশ পরিচালনার ক্ষমতা থাকে না।গনতন্ত্র হলো মূর্খদের শাসন।প্লেটো মনে করতেন দেশ চালাবে একজন দার্শনিক রাজা।যারা অগাধ জ্ঞানের অধিকারী।যাদের বিচক্ষণতা রয়েছে।  The Republic  গ্রন্থে প্লেটো এভাবে গনতন্ত্রের বিরোধিতা করেছেন। 

প্লেটো মনে করতেন তার রাষ্ট্রে শিল্প সাহিত্য বন্ধ থাকবে। কবি,সাহিত্যিকরা তার রাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না।কারণ শিল্প সাহিত্য মানুষের আবেগকে উস্কে দেয়।মনোবল দূর্বল করে দেয়। তিনি আরো মনে করতেন কোনো ব্যক্তি সম্পদের মালিক হতে পারবে না।সন্তানের দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র। মা-বাবা কে সেটাও তারা জানতে পারবে না। শুধু তাই নয় রাষ্ট্রের নাগরিকদের যোগ্য ও সবল করতে তিনি প্রতিবন্ধী সন্তানদের ছুড়ে ফেলে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

জঁক জা রুসো ( Jean Jacques Rousseaus)  

রুসো বিশ্বের একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি মানবাধিকার, শিশু অধিকার ও শিশু লালন-পালনে পিতা-মাতার দায়িত্ব কর্তব্য নিয়ে বই লিখেছেন। বইটির নাম এমেলি। অথচ তিনি পিতার দায়িত্ব পালন করেন নি। রুসো  ও তার স্ত্রী তেরেসা লেবাসুরে তাদের পাঁচটি সন্তানকে অনাথ আশ্রমে রেখে আসেন। প্যারিসের তখনকার অনাথ আশ্রম এতোটা আধুনিক ও উন্নত ছিলো। অপুষ্টি ও অন্যান্য রোগে প্রায়শই বাচ্চারা মারা যেত। যখন তিনি শিশু লালন-পালনের পদ্ধতি নিয়ে Emile বইটি লিখলেন তখন তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন।

ভলতেয়ার ( Voltair)  এর বিতর্কিত জীবন

ভলতেয়ারকে ফরাসীদের আলোকবর্তিকা বলা হয়। ভলতেয়ার মানবাধিকার, সমাজ সংস্কার ও ধর্মীয় কুসংস্কারের এর বিরুদ্ধে লিখতেন,বলতেন।অথচ তার বিরুদ্ধে এমন কিছু অভিযোগ রয়েছে যা শুনলে চক্ষু চড়ক গাছ।ভলতেয়ার নাকি দাস ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। লটারি কারচুপি করে ধনী হয়েছেন। এছাড়া তার বর্ণবাদী মন্তব্য বেশ সমালোচিত। 

আর্থার ওপেন হাওয়ার  (Aurthur Schopenhauer) 

মানব প্রেম, দুঃখবাদ আর্থারের দর্শনের বিষয়৷ মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা বললেও ব্যক্তি জিবনে আর্থার ছিল খিটখিটে ও বদ মেজাজি এবং অহংকারী। প্রতিবেশীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়। তার বিরুদ্ধে নারী বিদ্বেষের অভিযোগ রয়েছে। তার বই৷ On Women গ্রন্থে নারীদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। 

দার্শনিকদের গোপন জীবনের খোঁজে


মন্তব্যসমূহ