ভূত বাংলার ভূত রহস্য। আপনি কি একা  বাস করেন? আপনার ঘরে কি ভূত বাস করে?আপনি কি তার ছায়া দেখেন? জানুন কেন বিস্তারিত

ভূত বাংলার ভূত রহস্য। আপনি কি একা বাস করেন? আপনার ঘরে কি ভূত বাস করে?আপনি কি তার ছায়া দেখেন? জানুন কেন বিস্তারিত

আপনি কি ভূত দেখেছেন?নতুন বাড়িতে তৈরি করেছেন কিন্তু আপনার বাড়িতে ভূত বাস করে।আপনি একাকী থাকেন মনে যেন আপনার পাশে কেউ শুয়ে আছে।আপনি কি জানেন পুরোনো বাড়িতে ভূত কেন বাস করে?ভূতের ভয় ও নতুন পুরোনো বাড়ি থেকে ভূত তাড়ানোর উপায় নিয়ে আজকের আলোচনা। 


পুরোনো বাড়িতে ভূত কেন থাকে।নতুন বাড়ির ভূত
প্রতীকী ছবি।


নতুন বাড়িতে কি ভূত থাকে?

অনেকে বলে থাকেন নতুন বাড়ি করেছি কিন্তু ভূতের ভয়ে থাকা যায় না।রাতে দিনে ছায়া দেখা যায়। অদ্ভুত শব শব্দ শোনা যায় কেন এমন হয়?নতুন বাড়িতে ভূত-পেত বা জ্বিন থাকার কারণ। 

রং ও বার্নিশ: নতুন বাড়ির দেয়ালে ও কাঠের আসবাব পত্রে রং ও বার্নিশ ব্যবহার হয়। এগুলো রাসায়নিক পদার্থ। পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল না থাকলে অধিক পরিমাণে এসকল রং থেকে বিকীর্ণ গন্ধ ও রাসায়নিক মস্তিষ্কে গিয়ে হ্যালুসিনেশন ঘটায়। দৃষ্টি ভ্রম ঘটে।এ কারণে লোকে নতুন বাড়িতে ভূত দেখে। যেসব কারণে নতুন বাড়িতে জ্বিন-ভূত দেখা যায়।


ইনফ্রাসাউন্ড এর কারণে

মানুষ মূলত ২০ হার্টজ থেকে ২০০০০ হার্জ  এর কম্পাংকের শব্দ শুনতে পারে। ২০ এর নিচে  কোন শব্দ শুনতে পায় না।তবে আমাদের শরীর, মন, মস্তিষ্ক টের পায়। গবেষণায় দেখা গেছে ২০ হার্জ এর নিচের শব্দে আমাদের চোখে মৃদু কম্পন টের পাওয়া যায়। সাধারণত দূর থেকে বাতাসে ভেসে আসা মৃদু শব্দ,  ঘরের পাইপ, ফ্যান, ফ্রিজ বা অন্যান্য যন্ত্র থেকে উৎপত্তি মৃদু শব্দে এই ভ্রম তৈরি হয়।


পরিবেশ এর কারণে

মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে চলে।তবে নতুন পরিবেশের সাথে মন মস্তিষ্ক মানিয়ে নিতে সময় নেয়। ধরুন একটি বদ্ধ রুমে ঢুকে এক ধরনের গন্ধ পাবেন। কিছুক্ষণ পর আর পাওয়া যায় না। কারণ মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছে। এভাবে নতুন বাড়ির পরিবেশ সম্পর্কে মস্তিষ্কের অজানা।তাই মস্তিষ্ক বুঝে উঠতে পারে না বাড়িতে কী হচ্ছে। ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়।


পুরোনো বাড়িতে ভূতের আড্ডা হয় কেন?

নাটক-সিনেমা ও শিশুতোষ গল্পে পরিত্যক্ত  পুরনো বাড়িকে ভূতের বাড়ি হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়।ঘন বন-জঙ্গল, ফণিমনসা, শ্যাওলা ছত্রাক ও মাকড়সার জালে আবৃত বাড়ি-ঘরে আসলে কি আত্মা থাকে?যদি  না থাকে তাহলে কেন আত্মাদের দেখা যায়।চলুন পুরনো ভূত বাংলার রহস্য জানা যাক।



কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড এর কারণে

নতুন হোক কিংবা পুরনো কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়িতে অধিক পরিমাণে থাকলে মস্তিষ্কে হ্যালুসিনেশন হয়। মস্তিষ্ক ভূত দেখে। কিভাবে ঘরে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস থাকে? রান্নার গ্যস পুড়ালে,  ঘরে মধ্যে বা পাশে কাগজ, কাঠ,প্লাস্টিক, ডিজেল, পেট্রোল পোড়ালে উৎপন্ন  কার্বন ডাই-অক্সাইড ঘরে প্রবেশ করে আটকে থাকলে মস্তিষ্কে গিয়ে দৃষ্টিভ্রম হয়ে থাকে।


পোকা, ছত্রাক ও শ্যাওলা জমে থাকলে।

পুরোনো  ঘরে পোকা মাকড় বেশি থাকে, ছত্রাক ও শ্যাওলা তৈরী হয়।পুরোনো বাড়িতে একধরনের বিষাক্ত ছত্রাক তৈরি হয়। এগুলোর রেণু (স্পোর) বাতাসে মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে।ফলে আমরা ভূত দেখি।


বটগাছে কেন ভূত থাকে?


সাধারণত মোড়ের বড় গাছ বা বট গাছে ভূত আছ বলে শোনা যায়। কিন্তু কেন? আসলেই কি বট গাছে ভূত থাকে? আসল ব্যপার হলো রাতে উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ রাখে ফলো প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত করে। তো রাতে কেউ গভির  বন বা বড় বটতলে বসলে, শুয়ে থাকলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়।ফলশ্রুতিতে বুক ধরফর করে, মাথা ঘোরে, এমনকি  ভয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে।


প্যারেডেলিয়া কী?

মানুষ একটি আকৃতির সাথে আরেকটি আকৃতি মেলায়।অজানা আকৃতি হঠাৎ চোখে পড়লে হঠাৎ কোনো পরিচিত জিনিসের সাথে মিলিয়ে কল্পন করে।যদি রাতে অল্প আলোতে বাইরে কোনো জঙ্গল, ঝোপ-ঝাড়া, পোকা-মাকড়, কোনো প্রানী, জোনাকি এগুলো দেখে তাহলে মস্তিষ্ক পরিচিত কোনো জিনিসের সাথে মিলিয়ে কল্পন করে।ভয় পায়। 


আসলে ভূত দেখা, পেত্নী দেখা,  বা অদ্ভুত শব্দ শোনা,  গাঁ ঝমঝম করে উঠার পিছনে এসকল বৈজ্ঞানিক কারণ উল্লেখযোগ্য। সবই মস্তিষ্কের খেলা।মস্তিষ্কের নিজে দেখে, ভয় পায় আবার নিজেই তার ভয় পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে।


লেখক: মহাজাগতিক বিশ্বের কেন্দ্র।

মন্তব্যসমূহ